তীব্র গরমের প্রভাবে ব্রিটিশ খুচরা খাতে প্রবৃদ্ধি

তীব্র গরমে যুক্তরাজ্যের খুচরা খাতে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে গত মাসে বৈদ্যুতিক পাখা, খেলাধুলার সরঞ্জাম ও গ্রীষ্মকালীন পণ্যের প্রতি ভোক্তা আগ্রহের বৃদ্ধি ছিল লক্ষণীয়।

তীব্র গরমে যুক্তরাজ্যের খুচরা খাতে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে গত মাসে বৈদ্যুতিক পাখা, খেলাধুলার সরঞ্জাম ও গ্রীষ্মকালীন পণ্যের প্রতি ভোক্তা আগ্রহের বৃদ্ধি ছিল লক্ষণীয়। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশটির সাধারণ মানুষ এখনো চড়া জীবনযাত্রার খরচ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার চাপের মধ্যে রয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়ামের (বিআরসি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, জুনে দেশটিতে খুচরা খাতে বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। তবে মে মাসে একই খাতে ২ দশমিক ৭ শতাংশ সংকোচন দেখা গিয়েছিল, যা প্রায় দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় মাসিক পতন।

বিআরসির প্রধান নির্বাহী (সিইও) হেলেন ডিকিনসন বলেন, তীব্র গরমে বৈদ্যুতিক পাখার চাহিদা বেড়েছে। অন্যদিকে উইম্বলডন টেনিস টুর্নামেন্ট শুরুর কারণে খেলাধুলার সরঞ্জামের বিক্রিও বেড়েছে।

তিনি আরো জানান, খাদ্যপণ্যের বিক্রি ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। তবে এতে মূল্যস্ফীতির বড় ধরনের অবদান রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রিটিশরা এখনো চড়া মূল্যস্ফীতি, কর বৃদ্ধির প্রভাব এবং বাড়তি বিল পরিশোধের চাপে রয়েছেন। ফলে ভোক্তা আস্থা কমে গেছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তা তাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বার্কলেস ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, জুনে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে মোট খরচ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। খাবার ও জ্বালানির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমেছে ২ দশমিক ১ শতাংশ।

তবে বিনোদন ও ব্যক্তিগত ভোগের মতো আনুষ্ঠানিক খরচ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে বিয়ে, গ্রীষ্মকালীন উৎসব এবং বিখ্যাত শিল্পীদের কনসার্টের কারণে এ খাতে খরচ বেড়েছে। হসপিটালিটি, পারসোনাল কেয়ার ও বিনোদন খাতে ব্যয় ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।

পাশাপাশি আসবাব বিক্রিও বেড়েছে। গত মার্চে ইংল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে স্ট্যাম্প ডিউটি ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়। এর আগে ক্রেতাদের বড় একটি অংশ বাড়ির মালিকানা চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

বার্কলেস পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, দুই হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে ৭৩ শতাংশই তাদের পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী, যা চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ব্যাংকটির প্রধান অর্থনীতিবিদ জ্যাক মিনিং বলেন, ‘অর্থনীতি খানিকটা শ্লথ হলেও কিছু খাতে স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। তবে মূল্যস্ফীতি ও অনিশ্চয়তার কারণে ভোক্তারা এখনো সাবধানী। আমরা আশা করি, সুদহার কমলে ও ভোক্তা আস্থা ফিরলে আগামী বছর অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি ফের বাড়বে।’

আরও